ছবি সংগৃহীত
অনলাইন ডেস্ক : জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান ও দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, এনসিপি ও ১১ দলীয় জোট ক্ষমতায় গেলে আইন, নীতি ও প্রশাসনিক সংস্কারের মাধ্যমে অঙ্গীকার বাস্তবায়নে আমরা দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করব।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর একটি হোটেলে দলের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
এনসিপির মুখপাত্র বলেন, আমরা একটি মাহেন্দ্রক্ষণে দাঁড়িয়ে আছি। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যেই জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আমরা জানি, তারুণ্যের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর জাতীয় নাগরিক পার্টির প্রতি আপনাদের আকাঙ্ক্ষা রয়েছে, দেশবাসীর আকাঙ্ক্ষা রয়েছে। আপনারা আমাদের ইশতেহার, আমরা কী প্রমিস করছি, কী কমিটমেন্ট করছি, সেটা শুনতে দীর্ঘদিন ধরে আগ্রহী হয়ে আছেন। আজ সেই দিন, আজ সেই ইশতেহার ঘোষণা হবে। বাংলাদেশের রাষ্ট্র গঠনের ইতিহাস এ দেশের মানুষের রক্তের এবং আত্মত্যাগের ইতিহাস। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও আমরা গণতন্ত্র, সাম্য এবং মানবিক মর্যাদা সম্পন্ন একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে ব্যর্থ হয়েছি। এই ব্যর্থতা এবং এই বাস্তবতা স্বীকার করাই আমাদের রাষ্ট্র সংস্কারের প্রথম ধাপ বলে আমরা মনে করি।
আসিফ মাহমুদ বলেন, দীর্ঘদিনের দলীয়করণ, ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ ও বিচারহীনতা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে দুর্বল করেছে। এর ফলে নাগরিক অধিকার সংকুচিত হয়েছে। শাসন ব্যবস্থায় জবাবদিহিতা ভেঙে পড়েছে।
তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর গণতান্ত্রিক রূপান্তরের ম্যান্ডেট, জনগণের আকাঙ্ক্ষা এবং গণঅভ্যুত্থান ছিল জনগণের স্পষ্ট বার্তা– রাষ্ট্রকে আগের কাঠামোতে চালানোর বিপক্ষে এবং একটি নতুন গণতান্ত্রিক রূপান্তরের মাধ্যমে রাষ্ট্রের পুনর্গঠন ও পুনর্বিন্যাস। জাতীয় নাগরিক পার্টি বিশ্বাস করে মৌলিক ও কাঠামোগত সংস্কার ছাড়া স্থায়ী গণতান্ত্রিক রূপান্তর সম্ভব নয়। সেকেন্ড রিপাবলিক কোনো স্লোগান নয়, এটি একটি জবাবদিহিতামূলক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানবিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার।
এনসিপির নির্বাচন কমিটির চেয়ারম্যান বলেন, বাংলাদেশের নির্বাচনের ইতিহাসে অনেক ইশতেহার দেখে থাকি। একটা কমন বিষয় আমরা দেখি যে, কিছু কিছু ক্ষেত্রে একটা বেঞ্চমার্ক এস্টাবলিশ হয়ে গেছে যে, আমাদেরকে শিক্ষায়, স্বাস্থ্যে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দের কথা বলতেই হবে। সেটা যতটুকু বাস্তব হোক কিংবা না হোক, আমরা সেটা ভেঙে বেরয়ে আসতে চেয়েছি। আমরা বাস্তবতার নিরিখে এই ইশতেহারের মধ্য দিয়ে আগামী পাঁচ বছরে বাস্তবতার ভিত্তিতে যতটুকু বাস্তবায়ন সম্ভব করতে পারব বলে বিশ্বাস করি।
আসিফ মাহমুদ বলেন, এই ইশতেহার জনগণের সঙ্গে দীর্ঘ কথোপকথনের ফল। আপনারা জানেন, জুলাই পথযাত্রা থেকে শুরু করে আমরা দেশের পথে-প্রান্তরে গিয়েছি। আমরা মানুষের কথা শুনেছি। মানুষ আমাদেরকে তাদের বক্তব্যগুলো দিয়েছেন। তাদের দাবিগুলো জানিয়েছেন। আমরা সমাজের বিভিন্ন কমিউনিটির সঙ্গে বসেছি, তাদের কথা শুনেছি। বিভিন্ন পেশাজীবী গোষ্ঠীর সঙ্গে বসেছি। শ্রমিকদের নেতৃত্বের সঙ্গে বসেছি। সবার কথার ভিত্তিতে এই ইশতেহার তৈরি হয়েছে। ১২টি অধ্যায়ের ৩৬ দফার অগ্রাধিকার বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে নির্ধারিত হয়েছে।








